DNS server কি? কিভাবে DNS server কাজ করে?

DNS server কি? কিভাবে DNS server কাজ করে?



আজকে আমি আলোচনা করবো DNS Server নিয়ে। মুলত আমরা অধিকাংশ লোকেরা জানি না DNS এর পৃর্নরুপ কি। DNS server কি?  আর DNS Server এর কাজ কি? এই সকল বিষয় নিয়ে আজ আমি আছি আপনাদের সাথে। তাই আসুন এই সকল সমষ্টিগতভাবে আমরা আলোচনা করি। যার মাধ্যমে আপনার জানা হবে। আর এই সকল কিছু আপনাদের জানার খুবই প্রয়োজন। তাহলে আপনি ওয়েবসাইটের কাজ আরো একটু সহজ করে নিতে পারবেন। 

বিশ্বের যে সকল লোক ওয়েবসাইটের কাজ করে থাকে, তাদের অধিকাংশ লোক জানে না, যে DNS এর মাধ্যমে আমাদের ওয়েবসাইটের স্পিড এবং সারভার কানেকশনের মাধ্যমে  আমাদের সিকিউরিটি সিস্টেম আরো মজবুত হয়। তাই এই সকল তথ্য নিয়ে নিচে আলোচনা করা হবে। আপনি কষ্ট সহকারে নিচের দিকে একটু টেনে টেনে পড়ুন।

 

DNS Server কি?


DNS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Domain Name System. DNS Server কে আপনারা একটি ফোন বুক এর মতো চিন্তা করতে পারেন। যখন আমরা ব্রাউজারে কোনো এড্রেস লিখে সার্চ দিই, তখন সেটি ISP থেকে DNS Server এর কাছে যায়।



তখন DNS Server আমাদের দেওয়া এড্রেসটিকে নির্দিষ্ট একটি আইপিতে রূপান্তর করে।  আবার আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। DNS Server এ এড্রেস এর সাথে তার নির্দিষ্ট আইপিটি লিখে রাখা থাকে। যেমন আমরা আমাদের মোবাইল এর ফোন বুকে নম্বর এর সাথে তার নামটি লিখে সেভ করে থাকি। যাতে করে পরবর্তীতে খুঁজে পেতে সহজ হয়। সেজন্য DNS Server কে একটি ফোন বুক এর মতো কল্পনা করা যায়।



DNS Server কিভাবে কাজ করে?


আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন DNS Server কি? এখন চলুন জানা যাক DNS Server কি কাজ করে?DNS Server মূলত অনেক গুলো ডোমেইনের নাম সেভ করে থাকে সাথে তার আইপি এড্রেসটিও। পৃথিবীর সকল ডোমেইনের আইপি এড্রেস ভিন্ন ভিন্ন। আপনি কখনোই একটি আইপি এড্রেস ব্যবহার করে দুটো ওয়েব সাইটএ ভিসিট করতে পারবেন না। যখন আমরা কোনো ডোমেইনের নাম লিখে সার্চ দিই তখন DNS Server সেই ডোমেইনের নামটাকে তার নির্দিষ্ট আইপি এড্ড্রেসে রূপান্তর করে। আমাদেরকে রিটার্ন করে। DNS Server আমাদেরকে আইপি এড্রেস রিটার্ন করার কারণ হচ্ছে- ISP (Internet Service Provider) আইপি এড্রেস ছাড়া কোনো ওয়েব সাইটের সার্ভার খুঁজতে পারেনা।

উপরে থেকে আমরা জানতে পাই যে-  যখন কোনো ওয়েবসাইটের নাম লিখে সার্চ করা হয়। তখন সেটি আইপি এড্ড্রেসে রূপান্তর হওয়ার জন্য DNS Server এর কাছে যায়। কিন্তু এটি শুধু একবারই যায়। অর্থাৎ আপনি যখন আপনার ব্রাউজারটি প্রথম বারের মতো কোনো ওয়েবসাইট প্রবেশ করতে চাইবে। তখনই শুধু DNS Server এর কাছে যাবে। পরবর্তীতে যখন আবার প্রবেশ করবেন, তখন ওয়েবসাইটটির আইপি এড্রেস ব্রাউজারের ক্যাশ মেমোরিতে জমা থাকবে। ব্রাউজার সেখান থেকে আইপিটি নিয়ে ওয়েবসাইট টিতে প্রবেশ করবে।

ইতোমধ্যে আপনারা DNS Server সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে ফেলেছেন। আপনারা যদি DNS Server সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে চান তাহলে নিচের গুলো পড়তে পারেন। যদি না পড়েন তবুও কোনো সমস্যা নাই। DNS Server কয়েকটি ধাপে তার কাজ গুলো করে থাকে। DNS server এর ধাপ গুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।


প্রথম ধাপ: আপনি আপনার যেকোনো একটি ব্রাউজারে গিয়ে, যেকোনো একটি ওয়েবসাইটের এড্রেস লিখে সার্চ করুন। যেমন ধরুন google.com

দ্বিতীয় ধাপ: google.com লিখে সার্চ করার পরে, এটি চলে যাবে ISP এর কাছে। ISP এর কাছে আসার পরে ISP। প্রথমে তার ক্যাশ মেমোরিতে খোঁজার চেষ্টা করবে তার সার্ভার ব্যবহার করে কেউ কখনো google.com গিয়েছিলো কিনা। যদি গিয়ে থাকে তাহলে অবস্যই তার কাছে ওয়েবসাইটটির আইপি এড্রেস রয়েছে। সেই আইপি এড্রেস দিয়ে google.com এ নিয়ে যাবে। কিন্তু যদি ISP এর সার্ভার ব্যবহার করে আগে কখনো না গিয়ে থাকে। তাহলে সেটি রিকোয়েস্ট করবে Root server এর কাছে।




তৃতীয় ধাপ: Root server হচ্ছে ডোমেইন সার্ভার এর মেইন সার্ভার। Root server DNS higher key এর সবচেয়ে উপরে রয়েছে। পৃথিবীতে মোট তেরোটি Root server রয়েছে। যা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা রয়েছে। Root server গুলো অপারেট করা হয় বারোটি ভিন্ন ভিন্ন  প্রতিষ্টানের এর মাদ্ধমে। প্রত্যেকটা Root server এর আলাদা আলাদা নিজস্ব আইপি রয়েছে।

মজার বিষয় হচ্ছে Root server ডোমেইনএর আইপি সম্পর্কে কিচ্ছু জানে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে -
কেন Root server এর কাছে পাঠানো হচ্ছে?

এর কারণ হচ্ছে Root server এটা জানে কে google.com কোথায় আছে সেটা জানে।

এখন এখানে আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে-
Root server কিভাবে এটা জানে? Root Server এর কাছে google.com এর আইপি আছে?

এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে Root server.com.info এই ধরনের টপ লেবেল ডোমেইন এর মাদ্ধমে জানতে পারে। প্রত্যেকটা টপ লেবেল ডোমেইনের জন্য আলাদা আলাদা সার্ভার রয়েছে। যদি তা.com হয়, তাহলে Root server তাকে.com যেখানে রয়েছে। তার তথ্যটি ISP কে দিয়ে দিবে। তখন ISP TLD (Top Label domain) server এর কাছে রিকোয়েস্ট করবে।

চতূর্থ ধাপ: TLD server ও কিন্তু ডোমেইনের আইপি এড্রেস সম্পর্কে কিচ্ছু জানে না। কিন্তু সে ডোমেইনের অনেক গুলো তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। TLD server এটা জানে কোন Name server এর কাছে ডোমেইনটির আইপি এড্রেস রয়েছে। তখন TLD server Name server এর তথ্যটি ISP কে দিয়ে দেয়। তখন ISP সেই তথ্যটি নিয়ে Name server কে রিকোয়েস্ট করে।

পঞ্চম ধাপ: Name server সেই সার্ভার যেখানে ডোমেইনটির আইপি এডড্রেসটি সেভ থাকে। তখন সে ডোমেইনটি দেখে তার আইপি এডড্রেসটি খুঁজে বের করে ISP কে ব্যাক করে দিবে। অবশেষে ISP ব্রাউজারকে ব্যাক করে দিবে আর ব্রাউজার আমাদেরকে আমাদের ওয়েব সাইটটি দেখাবে।



ইন্টারনেটের গতি বাড়ান গুগল DNS এর সাহায্যে


প্রথমেই বলে নেই DNS রিসলভিং কি?

আমরা কোন ওয়েবসাইট দেখতে যখন কোন Address লিখি, তখনতা লিখি সাইটির ডোমেন নেম আকারে (যেমন: http://www.google.com) । DNS server এই নামকে আইপি Address-এ রুপান্তর করে (যেমন: 74.125.45.100) । প্রত্যেকবারই এটা করতে হয় এবং বেশীরভাগ ওয়েবসাইটের সঠিক আইপি পেতে কয়েকবার রিসলভিং করতে হয় ।

 

তাছাড়া যখন অনেকজন একই সাথে অনেকগুলো পেজ ভিজিট করে তখন স্বাভাবিকভাবেই server এ চাপ পরেও রিসলভিং এ কিছুটা সময়বেশী লাগে তাই পেজ লোড হতেও বেশী সময় লাগে । এই সমস্যা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে আইএসপি ছাড়াও DNS resolver server ব্যবহার করা হয় (যেমন: Open DNS) । বেশ কয়েকদিন হল গুগল নিজস্ব DNS সার্ভিস চালু করেছে । গুগল সার্ভিসটি চালু করেছে যাতে আরো দ্রুত ওয়েবসাইট ভিজিট করা যায় ।অনেকেই হয়ত এর দ্বারা লাভও হচ্ছেন । আমার নিজেরটা অবশ্য  বুঝে উঠতে পারছি না !



আপনি নিজে এই সার্ভিসটি উপভোগ করতে পারবেন । গুগল নিজস্ব DNS Server Address হচ্ছে 8.8.8.8
এবং 8.8.4.4 । আপনার আইএসপি এর দেয়া DNS Server Address কে এগুলো দ্বারা রিপ্লেস করে নিন । DNS Server Address সেটিংস XP, Vista , 7 , Ubuntu এ ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থিত, তাই দেখালাম না । তাছাড়া অনেক ছোট ছোট টুল পাওয়া যায়,  যার দ্বারা এক ক্লিকেই এটি আইএসপি এর এবং গুগলের DNS Server Address এ সুইচ করতে পারবেন । নিচে একটি এমন একটি টুল দিলাম ।

Google DNS Helper:

এটি একটি পোর্টেবল টুল । এটি চালু করে Switch to Google DNS এ ক্লিক করলেই আপনার সেটিংস পরিবর্তন হয়ে যাবে । তারপর Restore DNS এ ক্লিক করলে আগের সেটিংসে ফিরত যাবে ।

সতর্কতা : DNS Server Address পাল্টানোর পূর্বে আগের Addressটি কোন স্থানে সংরক্ষন করুন । এতে আর চিন্তার কোন কারন থাকবেনা ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post